দেশজুড়ে



দেশদর্পণ ডেস্ক

২৬ নভেম্বর ২০১৭, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ




চাঁদাবাজির অভিযোগে শেরপুরে উদীচীর সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

দেশদর্পণ ডেস্ক :: ফেসবুকে ধর্ম নিয়ে দেওয়া বিভিন্ন স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগ শেরপুরে জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক রিতেশ কর্মকারকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ‘অমিত’ নামে আরেক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শহরের নয়ানী বাজার এলাকার ভাড়া বাসা থেকে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে সদর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, শেরপুরে শহরের নয়ানী বাজার এলাকার পোদ্দার কমপ্লেক্সের ছাদে ২০১৬ সালে কথিত ব্রহ্মচারী শান্তানন্দ ওরফে প্রবীর চৌধুরীর স্থাপিত ক্রিয়াযোগ উপাসনালয়কে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে বিভেদ দেখা দেয়। ব্রহ্মচারী শান্তানন্দের বক্তব্য ও বিবৃতি এবং ফেসবুকে ধর্ম নিয়ে দেওয়া বিভিন্ন স্ট্যাটাসকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগ ওঠে। যার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বাড়ির মালিক পোদ্দার পরিবার উপাসনালয়টি সরিয়ে নেওয়ার কথা বললে শান্তানন্দ ও তার ভক্তরা ক্ষুব্ধ হন। রিতেশ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশপাশি মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন আহমদ কলেজে শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম উদীচী জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক রিতেশ কর্মকারসহ দুইজনকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শহরের নয়ানী বাজার এলাকার পোদ্দার কমপ্লেক্সের মালিক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাম পোদ্দারের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ৫০ লাখ চাঁদা দাবির অভিযোগে রিতেশ কর্মকারসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জনকে আসামি করে শুক্রবার রাম পোদ্দার এ চাঁদাবাজির মামলাটি দায়ের করেছেন।

রিতেশ কর্মকারের গ্রেপ্তারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উদীচী শেরপুর জেলা সংসদের সভাপতি তপন সারোয়ার, জাতীয় পরিষদ সদস্য এস এম আবু হান্নান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ শেরপুর জেলা শাখার সভানেত্রী জয়শ্রী দাস লক্ষ্মীসহ সংস্কৃতি কর্মীরা। এমনকি উপাসনালয়ের ১০জন শিষ্য নাম দিয়ে পোদ্দার পরিবারের বিরুদ্ধে আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন। যার অন্যতম বাদী হিসেবে রিতেশ কর্মকারের নাম রয়েছে।

এর মধ্যেই ব্রহ্মচারী শান্তানন্দ শেরপুরের বাইরে যান। কিন্তু রিতেশ কর্মকারের কাছেই ওই উপাসনালয়ের গেটের চাবি থাকতো। সে উপাসনালয়ের চাবি দিতে অস্বীকার করায় গত ২১ নভেম্বর দুপুরে ওই উপাসনালয়টি বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে দেন বাড়ির মালিকসহ স্থানীয় হিন্দু জনসাধারণ। পরে বাড়ির মালিক রাম পোদ্দার বাদী হয়ে সদর থানায় ব্রহ্মচারীর শান্তানন্দের শিষ্য রিতেশ কর্মকারসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন।

সূত্র : পরিবর্তন ডটকম

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর