লিড নিউজ



দেশদর্পণ ডেস্ক

২ ডিসেম্বর ২০২০, ২:৫৩ পূর্বাহ্ণ




গুচ্ছ ভর্তিতে যুক্ত হয়েছে আরও ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়

কলাকৌশল ঠিক করতে বৈঠক ১৯ ডিসেম্বর

দেশের ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কৃষিবিষয়ক সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় গত বছরই গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছে। এবার নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ১৯ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

গতকাল মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে এক সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। গুচ্ছ ভর্তির বিস্তারিত কলাকৌশল ঠিক করতে আগামী ১৯ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ১৯ প্রতিষ্ঠানের উপাচার্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

শিগগিরই কৃষি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে তাদের সিদ্ধান্তের কথাও জানাবে ইউজিসি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এই গুচ্ছ ভর্তিতে আসবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছে। এগুলোর প্রতিটিই পৃথকভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেবে। এ জন্য গতকালের বৈঠকে এই চার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের ডাকা হয়নি।

তবে ইউজিসি আশা প্রকাশ করছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নেতৃত্বে এ বছর থেকেই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তিতে অংশগ্রহণ করবে। এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আগে থেকেই জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করে আসছে।

সভা সূত্রে জানা যায়, দেশের ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই গুচ্ছের অধীনে মানবিক, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান—এই তিনটি বিষয়বস্তুর ওপর পরীক্ষা নেওয়া হবে। এসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা হবে। উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির ওপর ভিত্তি করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে।

সভায় বেশির ভাগ উপাচার্য জানান, শীতে করোনার প্রকোপ বাড়ছে। তাই শীতের সময়টা দেখেই ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা উচিত। তা ছাড়া করোনার কারণে পরীক্ষা না নিতে পারায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এখনো দ্বিতীয় বর্ষে উন্নীত হতে পারেননি। এখন নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে প্রথম বর্ষেই দুই ব্যাচ শিক্ষার্থী থাকবে। এ জন্য প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন একাধিক উপাচার্য।

সভায় সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান বলেন, উপাচার্যদের সমন্বয়ে গঠিত কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি এই গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি নির্ধারণ করবে। কমিটি ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি স্কোর দেবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ শর্ত ও চাহিদা উল্লেখ করে শিক্ষার্থী ভর্তি বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেবে। স্কোর নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী ভর্তি করবে। আলাদা করে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, করোনার কারণে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পিছু হটার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কথা চিন্তা করে সরাসরি ও সহজ উপায়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য তিনি উপাচার্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় ৪৬ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯ সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ ও অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের।

গুচ্ছ ভর্তিতে যুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

এর বাইরে গত বছর থেকে গুচ্ছ ভর্তিতে যুক্ত হওয়া সাত প্রতিষ্ঠান হলো—বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

সূত্র : কালের কন্ঠ

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর