Ad Space
গবাদি পশু পালনে স্বাবলম্বী গোলাপগঞ্জের নাসির

দেশদর্পন প্রতিবেদক: সবজি চাষ ও গবাদি পশু পালন করে স্বাবলম্বী গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের শীলঘাট গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা নাসির উদ্দিন। সংসারের অভাব দূর করতে নিরন্তর চেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন। নাসির প্রমাণ করেছেন “কোন কাজে লেগে থাকলে সফলতা আসবেই”।

শীলঘাট গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নাসির পারিবারিক টানপোড়নের মধ্যে প্রায় দশ বছর আগে টাইটেল (দাওরায়ে হাদিস) পাস করে স্থানীয় একটি মাদরাসায় স্বল্প বেতনে চাকুরী শুরু করেন। কিন্তু তাতে তার সংসার চলত না। চেষ্টা করেন অন্য একটি চাকুরী জোগাড় করার। চাকুরী না পেয়ে অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছিলেন। পরিবারের প্রতি যথাযথ কর্তব্য পালন করতে না পেরে একসময় অনেকটা হতাশায় ডুবে যান। এরপর সবজি চাষ ও গবাদি পশু পালন করে আজ সে সফল। তার সাফল্যে আমরা খুব খুশি।

নাসিরের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বেকারত্ব এক সময় অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছিল, যা আমাকে বারবার পীড়া দিতো। হঠাৎ একদিন এক সহপাঠী বিয়ানীবাজার আলীনগর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা হোসেন আহমদ কামালের পরামর্শে সবজি চাষ শুরু করি। কিছুদিন বাড়ির পাশে ৪শতক জমিতে সবজি চাষে সফল হওয়াতে অনেকটা সম্ভাবনা জেগে ওঠে। এই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে গবাদি পশু পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করি।

প্রথমে ২টি গরু পালন শুরু করি। এক বছর লালন পালন করে কোরবানির হাটে এগুলো বিক্রি করে মোটামুটি একটা মুনাফা লাভ করি। এরপর ৪টি গরু দিয়ে বাড়িতে ছোট্ট একটি মাটির ঘরে গড়ে তুলি দেশী গরুর খামার। গরুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ক্ষেত্রে  ঢাকাদক্ষিণ বাজারের উপজেলা প্রাণীসম্পদ হাসপাতালের ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েছেন তিন।

এভাবেই নিজের এগিয়ে যাওয়ার কথা জানালে নাসির উদ্দিন। মাত্র আড়াই বছরে ক্রমে তার খামারে গরুর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

কোন প্রতিষ্ঠানে নয়, খামার গড়তে বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়দের কাছ থেকে আনা ধার আর নিজের পরিশ্রমে আজ স্বাবলম্বী তিনি ।

বর্তমানে তার খামারে ১৬টি গরু রয়েছে। তিনি মনে করেন, কেউ যদি নিষ্ঠার সাথে কাজ করে-জীবনে সফলতা আসবেই। অধিকাংশ সময় তিনি নিজেই খামারে সময় দেন। পরম যত্নে গরু লালন পালন করেন। ফলে আজকের অবস্থানে আসা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বললেন, অলস হয়ে বসে থাকলে জীবনে কিছুই করা যায় না। যে কেউ চেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে একদিন সে আলোর মুখ দেখবেই। ভবিষ্যতে খামারটি আরও প্রসারিত করার চিন্তাও তার রয়েছে। পাশাপাশি মধু চাষ, বাড়িতে ফলজ-বনজ চারা রোপন করছেন তিনি।