জাতীয়



দেশদর্পণ ডেস্ক

২৫ মার্চ ২০১৮, ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ




গণহত্যা ও নির্মমতার কালরাত আজ

দেশদর্পণ ডেস্ক :: আজ ২৫ মার্চ।নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর গণহত্যার ভয়াবহ ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমণ্ডির বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে দেশব্যাপী সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের প্রতিবাদে যখন ২৭ মার্চ হরতাল পালনের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল, তখনও জানা ছিল না কী ভয়ঙ্কর হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা করে সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার বিমান ঢাকা ত্যাগ করেছে।

রাজধানী ঢাকায় নিরীহ মানুষেরা যখন ঘরে ফিরেছে, তখনই তাদের হত্যার জন্য পথে নেমে আসে পাকিস্তান আর্মির ট্যাংক। ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’র মূল লক্ষ্য ছিল— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী- শিক্ষক, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং পিলখানায় ইপিআরের বাঙালি জওয়ানেরা। পাশাপাশি টেলিফোন, টেলিভিশন, রেডিও, টেলিগ্রাফসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ধ্বংস করে দেওয়া, যাতে ঢাকাকে শতভাগ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা যায়।

সেদিন রাত সাড়ে ১১টায় ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। তারা প্রথমে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং এরপর একে একে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ এর চারপাশ, ধানমন্ডি, পিলখানায় পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সদর দফতরসহ রাজধানীর সর্বত্র নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। ঢাকার বাইরে হত্যাযজ্ঞ চালায় চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকটি বড় শহরেও। পাকিস্তানি হায়েনাদের কাছ থেকে রক্ষা পায়নি ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৯ জন শিক্ষক। নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয় তাদের। ঢাবির জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যার সবচেয়ে বড় ঘটনাটি।

১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে বাঙালিরা আশা করেছিল, ক্ষমতার পালাবদল হবে এবং আওয়ামী লীগ ছয় দফা অনুসারে সরকার গঠন করবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১-এ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান ইয়াহিয়া খান পিপিপি (পাকিস্তান পিপলস পার্টি) এর জুলফিকার আলী ভুট্টোর প্ররোচনা ও চাপে প্রাদেশিক পরিষদের কার্যাবলী মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করলে বুঝতে সমস্যা হয় না, এবার প্রতিরোধের সময় এসেছে। এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দেন। বাংলার মানুষ প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিতে ‍শুরু করলে তাদের মানসিক সামর্থ্য গুড়িয়ে দিতে পরিকল্পনা হয় ২৫ মার্চের হত্যাযজ্ঞের।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর