সোশ্যাল মিডিয়া



দেশদর্পণ ডেস্ক

৯ মার্চ ২০১৮, ১০:২৮ অপরাহ্ণ




‘কিশোর আর কখনোই আসবে না’

তারিক সালমান : ইউনিভার্সিটিতে কিশোর ছিল আমার রুমমেট। ক্লাসমেটও। ওর সঙ্গে শেষবার দেখা হলো কয়েকদিন আগেই, গেল বইমেলায়। দেখলাম হাতে ২ কপি ‘রাতের গান’। বললাম, কাকে দিবা আরেকটা কপি? কিশোর কিছু বলল না। হাসল। আমি অবশ্য জানতাম কিশোর কাকে দিবে ওটা। বললাম, বাসায় আসো একদিন। কিশোর বলল, আচ্ছা, যাব। বললাম, কথা শুনে মনে হচ্ছে যাবা না তুমি। সে বলল না কিছু। হাসল। কিশোরকে যারা চেনে, তারা জানে শিশুদের মতো এই হাসিটা মোটা কাচের চশমার আড়ালে দেখতে কেমন।

কিশোর চাকরি করতো ঢাকা ট্রিবিউনে। ডেইলি নিউ এজেও ছিল কিছুকাল। যখন বরিশালে থাকতাম, হুট করে এক রাতে বাসায় এলো সে। ঢাকা থেকে বরিশালে এসেছিল একটা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহের জন্য। শিশুখাদ্য বা এই জাতীয় কোনো বিষয়ে। রাতের খানাপিনা শেষে হঠাৎ তার ইচ্ছে হলো কীর্তনখোলা দেখার। নদী দেখতে গেলাম দুজনে মিলে। তারপর হাঁটতে হাঁটতে পোর্ট রোড থেকে সদর রোড। কোথায় রঙ-চা পাওয়া যাবে তা খুঁজতে খুঁজতে একটা আঞ্চলিক পত্রিকার অফিসের নিচের দোকানে পাওয়া গেল চা। তখন অনেক রাত।

সেই কিশোর, যে বলতো, কিশোর না, তার নাম রাখা হয়েছিল কিশওয়ার, লোকের মুখে মুখে ‘কিশোর’ হয়ে গেছে, যে আসলে চিরসবুজ কিশোরই একজন, সে আজ একটা ছবি হয়ে গেল। হৃদয়ের অসুখে, কার্ডিয়াল অ্যাটাকে, হঠাৎ করে চলে গেল আজ। সবাইকে ছেড়ে।
কিশোর আর কখনোই আমাদের বাসায় আসবে না।
…..
২০১২ সালের মে মাসে ফয়সাল রহমান কিশোরের লেখা একটা কবিতা, যে কবিতাটার কোনো শিরোনাম দেয়নি সে :
মেঘ, ভারি কিংবা গরিলা জাহাজ তুলা
অনেক উঁচা শিমুলের রক্তলাল ফুল
তার নীচে পানের বরজ, চোখ ডলে দ্যাখ
স্কুলের সাদা-নীল শপথের সারি, সকালবেলা
স্কুল নাই?
ছুটি ফেরি থেকে সব ঘুম ছোঁ মেরে নিয়ে
পদ্মায় ডুব দিতেছিল শুশুক
লেখাটি তারিক সালমানের ফেইসবুক ওয়াল থেকে…

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর