এক্সক্লুসিভ



দেশদর্পণ ডেস্ক

২২ নভেম্বর ২০১৭, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ




কাঠমিস্ত্রির ছেলে থেকে জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতার নায়ক মুগাবে

দেশদর্পণ ডেস্ক :: যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন তখন দেশটির মানুষের কাছে তিনি ছিলেন স্বাধীনতার নায়ক। তুমুল জনপ্রিয় এক নেতা। আর ৩৭ বছর পর যখন ক্ষমতাচ্যুত হলেন তখন যেন মুদ্রার অন্য পিঠ দেখলেন জিম্বাবুয়ের ৯৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। জনরোষের মুখেই বাধ্য হলেন পদত্যাগ করতে। গত কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড চাপের মুখে থাকা মুগাবে এমন সময় পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন যখন পার্লামেন্টে তার অভিশংসন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তার পদত্যাগের ঘোষণায় উল্লাসে ফেটে পড়েছে রাজধানী হারারেসহ বিভিন্ন শহরের মানুষ।

তবে এতো সমালোচনা পরও শ্বেতাঙ্গ শাসন অবসান এবং স্বাধীনতার নায়ক হিসেবে অনেকের কাছে তার অবস্থান নায়কের মতো। এমনকি যারা তাকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়নে সোচ্চার হয়েছেন তাদের অনেকেরও সমালোচনার পাত্র আসলে মুগাবের স্ত্রী গ্রেস মুগাবে, আর তাকে ঘিরে থাকা ‘অপরাধী’ চক্র।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, কাঠমিস্ত্রী বাবার ঘরে ১৯৩৪ সালে তাঁর জন্ম। বাবার মৃত্যুর পর কাজের সন্ধানে বুলাওয়ে শহরে যান মুগাবে। পরে আইরিশ একজন পাদ্রীর সাথে থেকে নিজেকে গড়েন তিনি। পরে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এসেছেন মুগাবে। ছয় ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয় রবার্ট মুগাবে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিপ্লবী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। ক্ষমতায় আরোহণের পর কখনও তুমুল জনপ্রিয়তা আবার কখনও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেও ক্ষমতায় আকড়ে ছিলেন এতটা সময়। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি যদি নির্বাচনে হারো এবং জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হও, তাহলে বুঝবে রাজনীতি ছাড়ার সময় এসেছে।’ সেই মুগাবেই নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ক্ষমতায় থেকে গেলেন এবঙ তখন বললেন ‘কেবলমাত্র ঈশ্বর’ই আমাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারে।

রবার্ট মুগাবের উঠে আসা এবং রাজনৈতিক জীবন সংক্ষেপে :
১৯২৪: রবার্ট মুগাবের জন্ম। পরে প্রশিক্ষণ নেন শিক্ষকতায়।
১৯৬১: ঘানার স্যালি হেফ্রনকে বিয়ে করেন।
১৯৬৩: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধিতার ধারাবাহিকতায় জানু-পিএফ পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৬৪: বন্দিত্ব বরণ, প্রায় দশ বছর রোডেশিয়ার কারাগারে ছিলেন তিনি।
১৯৮০: ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর জিম্বাবুয়ের প্রধানমন্ত্রী হন, জয়লাভ করেন স্বাধীনতা উত্তর নির্বাচনে।
১৯৮১: নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন।
১৯৮৭: প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
১৯৯৪: প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতিগত বিদ্বেষ অবসানের অন্যতম দৃঢ় সমর্থক।
১৯৯৬: গ্রেস মারুফুকে বিয়ে করেন।
২০০০: গণভোটে পরাজয়। শ্বেতাঙ্গদের কৃষি খামার অধিগ্রহণ।
২০০২: প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে জয়লাভ।
২০০৮: প্রথম দফা নির্বাচনে হেরে যান। দ্বিতীয় দফায় সমর্থকদের ওপর ব্যাপক হামলার প্রেক্ষাপটে তার প্রতিদ্বন্ধী সরে দাঁড়ান।
২০০৯: নির্বাচনের প্রতিপক্ষ মর্গান সাভাঙ্গিরাইকে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত।
২০১১: উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্যে জানা যায়, রবার্ট মুগাবে প্রস্টেট ক্যান্সারে ভুগছেন।
২০১৭: দীর্ঘদিনের সহযোগী ভাইস-প্রেসিডেন্ট এমারসন মানাঙ্গকওয়াকে বরখাস্ত এবং এরপরই নিজ দল জানু-পিএফ ও সামরিক বাহিনীর ক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগে বাধ্য হলেন।
রবার্ট মুগাবের পর জিম্বাবুয়ের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা এখনো বলা হয়নি, তবে ভাইস-প্রেসিডেন্ট এমারসন মাসাঙ্গাগওয়ার নামই বলা হচ্ছে সবার আগে।
তিনি এখন দক্ষিণ আফ্রিকায় আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে অজ্ঞাত স্থান থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে জানিয়েছিলেন।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর