সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ ডেস্ক

১২ মার্চ ২০১৮, ১২:০২ অপরাহ্ণ




এপ্রিলে হাসিনা-মোদি কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইনের কাজ উদ্বোধন করবেন

দেশদর্পণ ডেস্ক :: এপ্রিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইনের মূল কাজ উদ্বোধন করবেন। কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইনের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন শেষে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন এ তথ্য জানান।

রবিবার (১১ মার্চ) দিনব্যাপী কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন চালুর লক্ষ্যে রেল মন্ত্রণালয়ের এই ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর, বড়লেখা, দক্ষিণভাগ ও জুড়ী স্টেশনসহ রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন।

দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৫ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অংশ হিসেবে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন চালু হয়েছিল। বড়লেখা উপজেলার লাতু সীমান্ত দিয়ে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন হয়ে আসাম রেলওয়ের ট্রেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আসা-যাওয়া ট্রানজিট রুট ছিল।

কুলাউড়া-শাহবাজপুর লাইনে চলাচলকারী ট্রেনটি এলাকাবাসীর কাছে ‘লাতুর ট্রেন’ নামে পরিচিত। প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ লাইনে রয়েছে বড়লেখা, কুলাউড়া ও জুড়ীসহ তিনটি উপজেলা। এই তিন উপজেলা ছাড়াও এই ট্রেনের অন্যতম উপকারভোগী ছিলেন সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ। এসব এলাকার মানুষ কম খরচে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতের জন্য লাতুর ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

২০১৩ সালের ৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনি সফরে এসে জনসভায় এ রেললাইনটি চালুর ঘোষণা দেন।

রেললাইন এলাকা পরিদর্শনের সময় আও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) সৈয়দ ফারুক আহমদ, প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) মো. আরিফুজ্জামান, রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনের পুনর্বাসন প্রকল্প পরিচালক এবং রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পথ) মো. তানভিরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (মৌলভীবাজার) মো. রোকন উদ্দিন, বড়লেখার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কলকাতা কালিন্দি (রেল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান) রেলওয়ের সার্ভেয়ার রিপন শেখসহ অনেকে।

রেলওয়ে সূত্রে আরও জানা গেছে, কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন পুনর্বাসন ও চালুর লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ট্রেনলাইন পুনর্বাসনে খরচ হবে ৬৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এরমধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিবে ১২২ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং ভারত সরকার দিবে ৫৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ৪৪ দশমিক ৭৭ কিলোমিটারের পুরোটাই দ্বৈত গেজ লাইনে পুনর্বাসন করা হবে। এর মধ্যে সাত দশমিক ৭৭ কিলোমিটার লুপ লাইনের কাজ হবে। ট্রেনলাইন পুনর্বাসনের পাশাপাশি ৬টি স্টেশনের মধ্যে জুড়ী, দক্ষিণভাগ, বড়লেখা ও শাহবাজপুর ‘বি’ শ্রেণি এবং কাঁঠালতলী ও মুড়াউল স্টেশন ‘ডি’ শ্রেণিতে পুনঃসংস্কার করা হবে।

ভারতীয় রেল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কালিন্দি রেলওয়ে পুনর্বাসনের কাজ করবে। এই রেললাইনটি চালু হলে কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচটি ট্রেন চলাচল করবে। লোকাল ট্রেন ছাড়াও আন্তঃনগর ট্রেন চলবে। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় ট্রেনও চলবে এ পথ দিয়ে। কাজ শুরুর পর ২৪ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এ রেললাইনটির সার্বিক অবস্থা দেখেছি। ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাথমিক কাজ শুরু হলেও মূল কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী মাসে শুরু হতে পারে। ভারতের সঙ্গে আমাদের আরও কিছু প্রকল্প রয়েছে। এমনও হতে পারে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটা শুরু করবেন।’

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর