দেশদর্পণ ডেস্ক

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৫:০৮ অপরাহ্ণ




উন্নয়ন যুদ্ধে জয়লাভে কৃষি ও কৃষকের ভূমিকা আজও মুখ্য: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্র‌তি‌বেদক :: রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেছেন, ‘ আমাদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন যুদ্ধে জয়লাভের জন্য কৃষি ও কৃষকের ভুমিকা আজও মুখ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও অগ্রগতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রেখে বর্তমান সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ এর পথচিত্র অনুসরণ করে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে চলেছে।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন যুদ্ধে জয়লাভের জন্য কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন অপরিহার্য। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও স্থিতিশীলতা সংরক্ষণে কৃষির ভূমিকা আজও মুখ্য। সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈরিতা মোকাবেলা করে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ধান, গম, ভুট্টা, সবজি, মাছ মাংস ডিম ও দুধ উৎপাদনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলেছে। এটি সম্ভব হয়েছে সরকারের বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন উপলক্ষে আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি আনন্দিত। সমাবর্তন একটি প্রতীকী অনুষ্ঠান। এখানে প্রাতিষ্ঠানিক সাধনা ও সিদ্ধির সাথে সমাজের আশা-আকাঙ্খার মেলবন্ধন ঘটে থাকে।’

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘কৃষিখাতে আজ যে অভাবনীয় সাফল্য দৃশ্যমান, এর পেছনে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন আমাদের কৃষিবিদগণ। নিরন্তর গবেষণার মাধ্যমে তাঁরা পরিবেশ উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনসহ সব পর্যায়ে তা দ্রুত হস্তান্তর ও বিস্তারেও ভূমিকা রাখছেন। কৃষিতে উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে কৃষকপর্যায়ে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এছাড়া পচনশীল কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বহুমুখীকরণেও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বৃহত্তর সিলেটের পাহাড়, নদী, হাওর, সবুজ বনাঞ্চল ও প্রান্তর এই অঞ্চলকে এক অনন্য প্রাকৃতিক লীলাভূমিতে পরিণত করেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এখানকার বিস্তৃত প্রান্তরে ছড়িয়ে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। লাগসই কুষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এর উৎপাদনশীলতাকে বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে আরও সুদূরে। ২০৫০ সাল কিংবা ২১০০ সালে দেশের প্রক্ষেপিত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা ও খাদ্য নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের জাতীয় জীবনে ফেব্রুয়ারি মাস অশেষ গুরুত্ব বহন করে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার যে স্ফুরণ ঘটেছিল, তা দু দশক ধরে নানা আন্দোলন-সংগ্রাম চরাই উতরাই পেরিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাস্তব রুপ লাভ করে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই দীর্ঘ ও ব্যাপক কর্মযজ্ঞের পৌরহিত্যে ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার প্রাজ্ঞ ও দুরদর্শী নেতৃত্ব বাঙ্গাই জাতিসত্তার উন্মেষ ও বিকাশকে অবারিত করে। আমি আজ শ্রদ্ধাবণত চিত্তে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। একই সাথে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি ভাষা আন্দোলনের চিরঞ্জীব শহীদসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ত্রিশ লক্ষ শহীদের অমর স্মৃতির প্রতি। আমরা এদেরই গর্বিত উত্তরাধিকার। এদের স্বপ্ন ও আদর্শকে জীবনের সর্বস্তরে বাস্তবায়ন করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।’

এর আগে জাতীয় সংগীত ও ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম শাহি আলম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। সমাবর্তন বক্তার ভাষণ দেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ও চেয়ারপার্সন ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।এর আগে জাতীয় সংগীত ও ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম শাহি আলম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। সমাবর্তন বক্তার ভাষণ দেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ও চেয়ারপার্সন ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ১ হাজার ৭৩৩ জন ¯œাতক ডিগ্রি, ৫১৫ জনকে মাস্টার্স অব সায়েন্সে ডিগ্রি এবং একজন ডক্টর অব ফিলোসফি ডিগ্রি লাভ করেন। প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্বর্ণপদক প্রাপ্তদের মাঝে উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব ও বীজ বিজ্ঞান বিভাগে ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়া বদরুন নেছা, কৃষিতত্ত্ব ও হাওর কৃষি বিভাগে আঁখি পাল চৌধুরী, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎসবিজ্ঞান বিভাগের পার্থ প্রতীম বর্মণ, মেডিসিন বিভাগে মো. মাহফুজুর রহমান এবং কীটতত্ত্ব বিভাগের জিনাত জাহান চৌধুরীর হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে গতকাল বেলা ২টা ৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে পৌছেন রাষ্ট্রপতি। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি বেলা আড়াইটায় হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারতে যান। এরপর তিনি হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে বিমানযোগে আবার ঢাকায় ফিরে যান তিনি।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর