আন্তর্জাতিক



দেশদর্পণ ডেস্ক

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ




ইথিওপিয়ায় জরুরি অব্স্থা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রীর আচমকা পদত্যাগের একদিন পর আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইবিসি জানায়, শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, শুক্রবার থেকে কার্যকর হলেও কতদিন এই জরুরি অবস্থা থাকবে তা জানা যায়নি। তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আদ্দিস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, বৈঠকে জরুরি অবস্থার মেয়াদ ৩ মাস বা ৬ মাস করার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

ইথিওপিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে টানা ১০ মাস জরুরি অবস্থা জারি থাকার পর গত বছরের জুলাই মাসে তা প্রত্যাহার করা হয়। সে সময় বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়। আর ইথিওপিয়ায় বৃহত্তর রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের দাবিতে ২০১৫ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছে দেশটির ওরোমো ও আমহারা জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা। তারাই দেশটির মোট জনসংখ্যার ৬১ শতাংশ।

ওরোমো মানবাধিকার কর্মী ও ওরোমিয়া মিডিয়া নেটওয়ার্কের প্রধান জাওয়ার মোহাম্মেদ এই জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে ‘অপ্রয়োজনীয়, অসহায়ক ও অপরিণামদর্শী’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, এই সময়ে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা ভাল উপায় নয়। এটা পরীক্ষায় ব্যর্থ প্রমাণ হয়েছে।

ইথিওপিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক পর্যবেক্ষক ফিলিক্স হরনে জানান, গত জরুরি অবস্থার সময় ২০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, ‘এই ঘটনায় মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিরা আবার রাগান্বিত হবেন। তাহলে জরুরি অবস্থাও আর কাজে আসবে না। আসলে সরকার এখন কী চায়?’

২০১২ সাল থেকে ইথিওপিয়ার ক্ষমতায় থাকা হাইলে মারিয়াম বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন জোট ইথিওপিয়ান পিপলস রেভ্যুলুশনারি ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইপিআরডিএফ) পদত্যাগের ঘোষণা দেন। চলমান অস্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক সংকটকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সে সময় সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টেকসই শান্তি ও গণতন্ত্র আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে ইপিআরডিএফ ও দেশটির পার্লামেন্ট পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নতুন কাউকে স্থলাভিষিক্ত না করা পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি। ক্ষমতাসীন জোট ইপিআরডিএফ ও তার নিজের দল সাউদার্ন ইথিওপিয়ান পিপলস ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে ইতোমধ্যে মেনে নিয়েছে।

বেআ/আবে

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর