আন্তর্জাতিক



দেশদর্পণ ডেস্ক

২০ অক্টোবর ২০১৭, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ




ইতালিতে গণধর্ষণের শিকার হতে যাওয়া তরুণীকে বাঁচালেন বাংলাদেশি

দেশদর্পণ ডেস্ক :: ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে ২৫ জন মাতাল দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েছিলেন তরুণী গ্যাইয়া গুয়ার্নোত্তা। দুর্বৃত্তরা তাকে ধর্ষণের জন্য ঘিরে ধরেছিল। এসময় একাই ২৫জন মাতালকে হটিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করেন সেখানে বসবাসরত এক বাংলাদেশি। খবর ডেইলি মেইলের।

জানা গেছে, ইতালির উত্তরাঞ্চলের তুসক্যানি অঞ্চলের রাস্তায় রাত ১১টার দিকে একাকী হাঁটছিলেন লিভোর্নোর বাসিন্দা ও পেশায় আলোকচিত্রী গুয়ার্নোত্তা। এসময় দুর্বৃত্তের দল তাকে ঘিরে ধরে এবং নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি চোখে পড়ে বাংলাদেশি ফুল বিক্রেতা হোসেইন আলমগীরের। তিনি মেয়েটিকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

ডেইলি মেইল জানায়, এই তরুণী প্রায় ধর্ষণের শিকার হতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু আলমগীর এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

ধর্ষণের শিকার হওয়া থেকে বেচে যাওয়া গুয়ার্নোত্তা নিজেও ফেসবুক পোস্টে সেই বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লিখেছেন, ‘ইতালির উত্তরাঞ্চলের তুসক্যানি অঞ্চলের রাস্তায় রাত সাড়ে ১১টায় একাকী হাঁটছিলাম। পিয়াজা ডেলা রিপাবলিকার কাছে ২৫ জনের একটি দল এসময় আমাকে ঘিরে ধরে।’ তিনি লেখেন, ‘সেই ইতালিয়ান লোকগুলো মাতাল ছিলো। তারা প্রথমে তাদের সবার সাথে সেক্স করতে আমাকে রাজি করানোর চেষ্টা করে। তারা বলতে থাকে, আমাদের সাথে চলো। চলো মজা করি। একজনের বিপরীতে ২৫ জন, তুমি একটা আনন্দময় রাত কাটাবে।

তখন পালিয়ে যেতে চেষ্টা করলে সেই মাতাল দুর্বৃত্তরা গুয়ার্নোত্তাকে টেনে অপরিচিত স্থানে নিয়ে যেতে থাকে। তার চশমাও সরিয়ে ফেলে তারা। এসময় গোলমাল উপলব্ধি করে এগিয়ে আসেন গোলাপ বিক্রেতা হোসেইন আলমগীর। তিনি ধাওয়া করে দুর্বৃত্তদের তাড়িয়ে দেন। গুয়ার্নোত্তাকে উদ্ধারের পর তাকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান আলমগীর। খেতে দেন। গুয়ার্নোত্তাকে একটি টাওয়েল দেন পরিষ্কার হতে। তাকে একটি গোলাপও উপহার দেন। বলে ফেসবুকে জানান এই তরুণী

আলমগীরের ব্যবহারে অভিভূত গুয়ার্নোত্তা লিখেন- হোসেইনের মতো মানুষের জন্য পৃথীবিকে ধন্যবাদ জানাই, যারা কোন প্রতিদান ছাড়াই সাহায্য করে। তার মুখটা আমি কখনও ভুলবো না।

২০০৫ সাল থেকে ইতালিতে বাস করছেন আলমগীর।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর