সোশ্যাল মিডিয়া



দেশদর্পণ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০১৮, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ




আবার কালরাত্রি এলো

জান্নাত আরা খান পান্না :: ২৫ শে মার্চ ১৯৭১ সাল। মধ্যরাতে অতর্কিত বাংলার নিরীহ জনগণের উপর হামলা চালায় পাকিস্তান সরকারের পোষ্য সামরিকবাহিনী, হিংস্র হায়েনার দল। স্বাধীনতার ৪৭ বৎসর পর ২৫ শে মার্চ আবার কাল রাত্রি হয়ে এলো এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে।

মরহুম মুক্তিযোদ্ধা এম এ সালাম এডভোকেট এর কনিষ্ট সন্তান, সিলট মহানগর আওয়ামীলীগ এর সাংগঠনি সম্পাদক এ টি এম হাসান জেবুলের ভাতিজা শাহ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ হতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন কারি মাভৈ আবৃত্তি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত মাহিদ আল সালাম (মেহেদি) ঢাকায় যাওয়ার পথে ছিনতাইকারীর অতর্কিত আক্রমণে জীবন দিতে বাধ্য হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে। ঝরে যায় একটি তাজা প্রাণ।

তারা ৪ ভাই বোনের মধ্যে সে ছিল সর্ব কনিষ্ট।তার বড়বোন ডঃ ফারহানা সালাম,ছোটবোন আফসানা সালাম, সহঃকারী অধ্যাপক,ইংরেজী বিভাগ,শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ও একমাত্র বড় ভাই ইংল্যান্ডে প্রবাসী ছাইদ আল সালাম,মাতা এডঃ আমিনা সালাম সহ চাচা ফুফু ও অসংখ্য গুণগ্রাহী বর্তমান।

আমার আজ ঘরে বসে থাকার কথা নয়।আমার থাকার কথা শহীদ মিনারে,থাকার কথা কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনে। হায়রে এত সাধের স্বাধীনতা।স্বাধীনতা দিবস পালন করছি আমার ভাতুষ্পুত্রের লাশ হাসপাতাল থেকে গ্রহণের মাধ্যমে।ছিনতাইকারী তার উরুতে ছুরিকাঘাত করে।আনুমানিক রাত ১২ টার দিকে। হাসপাতাল ভর্তি করা হয় আনুমানিক রাত ২ টায়।

ছুরিকাঘাতে সাথে সাথে তার মৃত্যু হয় নি।মৃত্যূ হয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে।জানিনা এখানে রাস্তার জনগণের,আইনশৃঙখলা বাহিনীর কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন অবহেলা ছিল কি না।থাকা খুব স্বাভাবিক। রাত৩.১৫ঘটিকায় তার চাচা জেবুল হাসানকে অবগত করে আইনঢ়ৃঙ্খলা বাহিনী।তখন সে চলে গেছে না ফেরার দেশে। আমি স্বাধীনতা দিবস পালন করব আৃমার ভ্রাতুষ্পুত্রের লাশ কাঁধে নিয়ে?স্বাধীনতা,আমার প্রিয় স্বাধীনতা। ছিনতাই কারীর ও স্বাধীনতা,দূর্নীতিবাজ, হত্যাকারীর স্বাধীনতা,জঙ্গী, রাজাকারের ও স্বাধীনতা।ঘুষ খাওয়ার স্বাধীনতা।প্রশাসন বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার ও স্বাধীনতা। এতই স্বাধীন দেশ, আমার সোনার বাংলাদেশ।

লেখকের ফেইসবুক থেকে নেয়া।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর