জাতীয়, সাবলিড



দেশদর্পণ ডেস্ক

9 January 2021, 12:00 AM




আনুশকা হত্যা : পায়ুপথেও মিলেছে নির্যাতনের আলামত

রাজধানীর কলাবাগানে মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও লেভেল’র ছাত্রী আনুশকা নুর আমিনের যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথ দুই দিক দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। দুই জায়গাতেই আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) পৌনে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন ফরেসনিক বিভাগের প্রধান ডা.সোহেল মাহমুদ। পরে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আনুশকার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। শিক্ষার্থীর যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথ দুই দিক দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। ময়নাতদন্তে দেহের দুই অংশেই আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ধস্তাধস্তির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেতনানাশক কোনো কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না তা জানার জন্য নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। ঘটনাস্থলে একাধিক ব্যক্তি ছিল তার ডিএনএ নমুনা এবং ভিসেরাও সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, থানা পুলিশ সুরতহাল রিপোর্টে বয়স জানতে চেয়েছে। সে কারণে মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক্সরের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে এক্সরে করা সম্ভব হয়নি। এক্সরে ছাড়াই মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছি। এখন শরীরের গঠন ও দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে, আনুশকা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইফতেখার ফারদিন দিহান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

মামলার এজাহারে মো. আল আমিন অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে তিনি ও তার স্ত্রী কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। বেলা সাড়ে ১১টায় আনুশকা কোচিংয়ের পেপার আনতে বাইরে যাচ্ছে বলে ফোনে তার মাকে জানায়। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে আনুশকা বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

এজাহারে বলা হয়, দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে দিহান আনুশকার মাকে ফোন দেয়। সে জানায়, আনুশকা তার বাসায় গিয়েছিল। সেখানে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করায়। এ কথা শুনে আনুশকার মা ১টা ৫২ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে জানতে পারেন আনুশকাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

আনুশকার বাবা এজাহারে আরও বলেন, তারা বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছেন, দিহান তার মেয়েকে প্রেমে প্রলুব্ধ করে ধর্ষণের উদ্দেশে বেলা ১২টার দিকে বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। পরে দিহান ফাঁকা বাসায় তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে আনুশকা অচেতন হয়ে পড়ে। পরে ধর্ষণের ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে দিহান আনুশকাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, মামলায় দিহানকে আসামি করা হয়েছে। আগেই আটক করা দিহানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় আটক বাকি তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা পেলে পুলিশ বাকি তিনজনকেও গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

মামলার তদন্তের বিষয়ে দুপুরে রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আনুশকা দিহানের বাসায় গিয়েছিলেন। দিহানের বাসা কলাবাগানে। এখানে আসার পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

অভিযুক্ত দিহানের ভাষ্যমতে, আনুশকাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করার আগেই মৃত বলে ঘোষণা করে।

সাজ্জাদুর রহমান বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে গিয়ে আমরা লাশ উদ্ধারসহ দিহান নামের ওই ছেলেকে আটক করি। তাকে হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্মতির ভিত্তিতে মেলামেশা হয়। এরপর ওভার ব্লিডিং হয়, এ কারণে আনুশকা সেন্সলেস (অজ্ঞান) হয়। তখন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর