জাতীয়, লিড নিউজ



দেশদর্পণ ডেস্ক

30 December 2020, 4:12 AM




‘আইসোলেশনে’ কাটল বিএনপির বছর

করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ দেখা দিলে মার্চ থেকেই আক্রান্তদের আইসোলেশনে পাঠানো হয়। তবে দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপির শীর্ষ নেতারা বছরের শুরু থেকে বেশিরভাগ সময় আইসোলেশনে কাটিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসায়ই অবস্থান করেছেন। শুরুতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমে উত্তরার নিজ বাসায় থেকে ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলন করলেও মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সশরীরে অংশ নিয়েছেন। তবে বেশিরভাগ নেতাই এসময় বাসা থেকেই বের হননি। করোনায় জনগণকে সচেতন করা, চিকিৎসকসহ অন্যদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকা- ইস্যু, সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এ ছাড়া করোনায় কাজ হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া ব্যক্তিদের মাঝে খাবার ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে দলটি।

চার বছর পর ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে হরতালের ডাক দিয়ে বছর শুরু করে দলটি। করোনার কারণে প্রায় ৭ মাস (২৬ মার্চ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর) দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে শুধু রাস্তায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশ করেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তির দিন ৩০ ডিসেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে বছর শেষ করার কথা দলটির। নতুন বছরের ২৬ মার্চ থেকে বছরব্যাপী স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীর কর্মসূচি শুরু করবে দলটি।

করোনাকালে গরিব-অসহায় মানুষকে সহযোগিতা, ভার্চুয়াল বৈঠক, আলোচনা সভা এবং সংবাদ সম্মেলন করেছে দলটি। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান শফিউল বারী বাবু, আবদুল আউয়াল খান, আহসান উল্লাহ হাসান, এম এ হক, শফিউল আযম, শাজাহান সিরাজ, এম এ হাসেম, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফসহ অনেকে। এ ছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলুসহ অনেক নেতাই করোনায় আক্রান্ত হন।

কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভার্স্কয ভাঙচুর ইস্যুতে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বিএনপি। তবে পদ্মা সেতু, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন, করোনার চিকিৎসায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর ও টেকনাফে মেজর (অব.) সিনহা ইস্যুতে সরকারের কড়া সমালোচনা করে বক্তব্য দেয় বিএনপি।

চলতি বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ৭৭৬ দিন পর মুক্তি পান দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলটির আন্দোলন কিংবা কোনো চাপে পড়ে সরকার তাকে মুক্তি দেয়নি; বরং করোনাকালে বয়স বিবেচনা ও মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির জন্য আবেদন করেন তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তির পর এ বিষয়ে বিএনপির অনুভূতি কী, জানতে চাইলে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘আমরা কিছুটা আবেগ আপ্লুত তো বটেই, কিছুটা স্বস্তিও বোধ করছি। আবার কিছুটা আতঙ্কিত বোধ করছি এই ভয়ংকর সময়ে তার এই মুক্তি তার কোনো ক্ষতি না ঘটে।’

করোনা সংক্রমিত হওয়ার পর জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ করে দলটি। এ ছাড়া করোনার কারণে কাজ হারিয়ে ফেলা গরিব মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সমালোচনা করলেও জাতীয় সংসদের শূন্য আসনগুলোর উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে বিএনপি।

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর দন্ডিত খালেদা জিয়াকে কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে গত ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। এরপর থেকে গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন খালেদা জিয়া। বহু বছর ধরেই আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন তিনি। সাময়িক মুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার গত ২৭ আগস্ট মেয়াদ বাড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। পরে তার মুক্তির সময় ছয় মাস বর্ধিত করা হয়। কিন্তু বিদেশ না যাওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে আবেদন করা হলেও তাতে সাড়া দেয়নি সরকার।

গত ১০ অক্টোবর ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকরা মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্তরায় বাসার সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধরা মহাসচিবের বাসায় ইটপাটকেল ও ডিমও ছুড়ে মারে। এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর চার শূন্য আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী চূন্তান্ত করতে চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা যখন সাক্ষাৎকারে, তখন তাদের সমর্থকরা সংঘর্ষ ও মারামারিতে লিপ্ত হয়। এই আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং কফিল উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। একজন কর্মীর মাথা ফেটে যায়।

সর্বশেষ গত ১৪ নভেম্বর দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও শওকত মাহমুদকে শোকজ করে বিএনপি। এ নিয়ে দলের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। পরে এই দুই ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চরম কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি। তারা শোকজের জবাব দেওয়ার পর তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে দলের প্রতি আনুগত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জামায়াতের সঙ্গে দূরত্বের বছর : ১৯৯৯ সালে চারদলীয় জোট গঠন হওয়ার মধ্য দিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সখ্য তৈরি হয়। এই জোট ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসে। সরকার গঠনে যুক্ত করে জামায়াতকেও। তবে এখন সম্পর্ক অনেকটা শীতল। চলতি বছরে জোটের একাধিক বৈঠক হলেও তাতে জামায়াতের নেতারা অংশ নেননি। সূত্র : দেশ রূপান্তর

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর